ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের হামলার নিন্দা মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানীর

পাঠানো এক বিবৃতিতে মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে সাদপন্থীদের নির্মম ও নৃশংস হামলা দাওয়াত ও তাবলীগের সুমহান কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা। এই বর্বরোচিত হামলায় ইতোমধ্যে ৪ জন মুসল্লি শাহাদাত বরণ করেছেন এবং শতাধিক তাবলীগের সাথী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি বলেন, কিছু গণমাধ্যম ঘটনাটিকে উভয় গ্রুপের সংঘর্ষ বলে প্রচার করছে, যা প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা। এটি কোনো সংঘর্ষ নয়, বরং তাহাজ্জুদ নামাযরত নিরস্ত্র মুসল্লিদের উপর সাদপন্থীদের সশস্ত্র ও পরিকল্পিত হামলা। এ ধরনের জঘন্য কাজের মাধ্যমে তারা বিশ্ব ইজতেমার শান্তি বিনষ্ট করতে এবং দাওয়াত ও তাবলীগের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়।

মাওলানা রাব্বানী হাদীসের একটি গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “পুরো দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহর কাছে এক মুসলিম হত্যার চেয়ে সহজ।” (সহীহ বুখারী)। তিনি বলেন, এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে যারা এই জঘন্য হামলা চালিয়েছে, তারা ইসলামের দুশমন।

তিনি আরও বলেন, এই সহিংসতা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে এবং বিশ্ব ইজতেমার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের অংশ। তৃতীয় শক্তি, দেশি-বিদেশি চক্র, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ও ইসরাইলের ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে। এই চক্র মুসলিম উম্মাহর ঐক্য বিনষ্ট করে বাংলাদেশকে বিশৃঙ্খল অবস্থায় ঠেলে দিতে চায়। তাদের পরিকল্পনা শুধু বিশ্ব ইজতেমা বানচাল করা নয়, বরং এই সংঘর্ষকে টার্গেট কিলিংয়ের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ারও ষড়যন্ত্র চলছে।

প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ব্যর্থতা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি ধর্মীয় সমাবেশে এভাবে রক্তপাত ও প্রাণহানি দেশ ও জাতির জন্য লজ্জার বিষয়। আমরা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি এবং হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

মাওলানা রাব্বানী বলেন, মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এই বিভেদ ও সংঘাত আমাদের ঐক্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আমি উভয় পক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই, আল্লাহর ভয় ও ইসলামের শান্তির শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে সংঘাতের পথ পরিহার করুন। বিশ্ব ইজতেমার শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখতে সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তির জন্য দোয়া করার পাশাপাশি প্রশাসন ও দেশের সচেতন নাগরিকদের এই চক্রান্ত রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এটা একটা মাফিয়ার দেশে পরিণত হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচত নয় এই সরকার আজকে জোর করে ক্ষমতা দখল করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যখন চুরি-চামারির কথা বলি, গায়ে লাগে তাদের। গায়ে লাগার কিছু নাই, চুরি করলে মাথা নিচু করে থাকতে হবে। সময় আসছে, যখন তাদের মাথা নিচু করে এ দেশ থেকে চলে যেতে হবে। আজ শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহে জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ফখরুল বলেন, প্রত্যেকটি চোরের-ডাকাতের বিচার হবে এ দেশে। তারা বিচার বিভাগকে ধ্বংস করেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। তাই আওয়ামী লীগকে আর ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, এরা কোনো নির্বাচিত সরকার নয়। এরা কোনো নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারেনি। শুধুমাত্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিভিন্ন আধিপত্যবাদী, পরাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। আমাদের সমস্ত স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা আছে তা ধ্বংস করে দিচ্ছে। ৬ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গুম করেছে। ৩৫ লাখের বেশি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তারা একই কায়দায় এ দেশ শাসন করতে চায়, বিরোধী সব মতকে দমন করতে চায়, গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করতে চায়। আবারও তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্ত ঝরিয়েছে। আমাদের ছাত্রদলের নেতাদের নির্মমভাবে পিটিয়ে-গুলি করে আহত করেছে। খুলনায় গত পরশু তারা মিটিংয়ে আক্রমণ করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তারা সন্ত্রাস করে, ভয় দেখিয়ে, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আবারও মানুষের অধিকার আদায়ের যে সংগ্রাম তা ধ্বংস করে দিতে চায়। এবার জেগে উঠছে মানুষ। আমাদের নেতা তারেক রহমান যে পতাকা উত্তোলন করেছেন তা এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পতাকা। যে পতাকা শহীদ জিয়াউর রহমান তুলে ধরেছিলেন, মানুষের সামনে নিয়ে এসেছিলেন; বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা কোথাও চাকরি পাই না। আমাদের ছেলে-মেয়েরা পাস করে যায় কিন্তু তাদের চাকরি দেওয়া হয় না। অথচ ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে বলেছিল, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে; ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে; বিনা পয়সায় সার দেবে। যেখানে যাবে শুধু পয়সা। পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি পেতে হলে ২০ লাখ টাকা কমপক্ষে লাগে, তাও পাবেন না যদি আওয়ামী লীগ না হন। এ দেশকে তারা লুটপাটের রাজত্ব বানিয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে সত্যিকার অর্থে জনগণের রাষ্ট্রে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি। বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, এই দেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সেই সরকার যে নির্বাচন কমিশন গঠন করবে, সেই কমিশনের পরিচালনায় সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন হবে।

নূর নিউজ

কী ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের জন্য?

নূর নিউজ

নেদারল্যান্ডসে পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ

নূর নিউজ