ঘুমের আগে বিছানা পরিষ্কার নিয়ে যা বলেছেন প্রিয়নবী সা.

মানুষের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য ঘুম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ঘুম ছাড়া মানুষ সুস্থ থাকতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত দিনে আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে অনেক সময় শারীরিক অবস্থা, কাজ, বয়স, ওজন ইত্যাদির কারণে ঘুম বেশি-কম হতে পারে। স্লিপ ফাউন্ডেশনের দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যথেষ্ট।

কম ঘুমকে অনেকে বর্তমান সময়ের ট্রেন্ড মনে করেন। উঠতি বয়সীরা দিনে ঘুমিয়ে রাতে জেগে থাকার মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলে, যা পরবর্তী সময়ে তাদের মারাত্মক সব অসুখের দিকে ঠেলে দেয়। ঘুমে অনিয়ম হলে দেখা দিতে পারে ডিপ্রেশনের মতো মানসিক অসুস্থতা। তাই শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

ঘুমানোর আগে বেশ কিছু আদব বা নিয়ম মানা জরুরি। এতে করে ঘুমের সময় দুঃস্বপ্নসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যাবে এবং সুন্নতের ওপর আমল হয়ে যাবে। এমন একটি আমল হলো ঘুমানোর আগে বিছানা ঝাড়া বা পরিষ্কার করা। সচেতন যেকোনো মানুষই ঘুমের আগে বিছানা ঝেড়ে পরিষ্কার করে থাকেন। তবে অনেকেরই হয়তো জানা এটি (ঘুমানোর আগে বিছানা ঝাড়া।) রাসূল সা.-এর ‍সুন্নত। তিনিও ঘুমানোর আগে বিছানা ঝাড়তেন এবং অন্যদের বিছানা ঝাড়ার আদেশ করেছেন।

وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «إِذَا أَوَى أَحَدُكُمْ إِلَى فِرَاشِهِ فَليَنْفُضْ فِرَاشَهُ بِدَاخِلَةِ إِزَارِهِ، فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي مَا خَلَفَهُ عَلَيْهِ، ثُمَّ يَقُولُ: بِاسمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا، فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ». متفق عَلَيْهِ

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ শয্যা গ্রহণ করবে, তখন সে যেন নিজ লুঙ্গীর একাংশ দিয়ে তার বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কারণ, সে জানে না যে, তার অনুপস্থিতিতে কি কি জিনিস সেখানে এসেছে। তারপর এই দোয়া পড়বে—

بِاسمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا، فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ

উচ্চারণ : বিসমিকা রাবিব অযাতু জানবী অবিকা আরফাউহু ফাইন আমসাকতা নাফসী ফারহামহা অইন আরসালতাহা ফাহফাযহা বিমা তাহফাযু বিহী ইবা-দাকাস স্বা-লিহীন।

অর্থ :

হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমারই নামে আমার পার্শ্ব রাখলাম এবং তোমারই নামে তা উঠাব। অতএব যদি তুমি আমার আত্মাকে আবদ্ধ করে নাও, তাহলে তার প্রতি করুণা করো। আর যদি তা ছেড়ে দাও, তাহলে তাকে ওই জিনিসের মাধ্যমে হিফাজত করো, যার মাধ্যমে তুমি তোমার নেক বান্দাদের করে থাক।

(বুখারি, হাদিস : ৬৩২০, ৭৩৯৩, মুসলিম, হাদিস : ২৭১৪, তিরমিজি, হাদিস : ৩৪০১)

এ জাতীয় আরো সংবাদ

ইসলামে পাত্রী দেখার পদ্ধতি ও নিয়ম

নূর নিউজ

কোরআনের ‘ওই সূরাটি’ বেশি পছন্দ, এভাবে বলা কি ঠিক?

নূর নিউজ

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দক্ষ হাফেজ, ইমাম ও আলেম তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে: মাওলানা রাব্বানী

নূর নিউজ