রামুতে কচ্ছপিয়া ও দৌছড়ি সীমান্ত সড়ক আবারো নদীগর্ভে, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ

মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর: কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ও বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি ইউনিয়নের যোগাযোগের প্রধান সড়কটি বারবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে আসছে। শুধু সড়কই নয়; সড়কটির ভাঙ্গন স্পটের সাথে লাগোয়া কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছরি নারিকেল বাগান এলাকার অনেকের ভিটেমাটি, বাড়িঘরও ইতিপূর্বে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।

বারবার নদী ভাঙ্গন রোধে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন ও সড়কটি মেরামত করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান হয়ে না উঠায় জনদূর্ভোগের শেষ হচ্ছে না। সম্প্রতি প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় সড়কটি আবারো ভয়াবহ ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। ফলে কচ্ছপিয়া- গর্জনিয়া বাজার ও নাইক্ষ্যংছড়ির দৌছড়ি ইউনিয়নের গাড়ি যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নদীর দক্ষিণ তীরবর্তী এলাকার অসংখ্য বাড়ি-ঘর চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ঝুকিপূর্ণ এসব বাড়িঘর যেকোনো সময়ে নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।

এলাকার প্রবীণ শিক্ষক মাষ্টার আহমদ আলী জানান, গত তিন বছর ধরে বর্ষা মৌসম আসলেই আমাদেরকে এ ভোগান্তি পোহাতে হয়। দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা নিয়ে মজবুত ভিত্তিতে নদীর তীর সংরক্ষণ ও সড়কটির টিকসই উন্নয়ন করা না হলে এ দূর্ভোগ শেষ হবে না। একই এলাকার তরুণ সমাজকর্মী রেজাউল করিম টিপু জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি -১১ বিজিবির অধীনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি ইউনিয়নে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বিজিবির ৬ টি বিওপি ক্যাম্প রয়েছে। ওসব ক্যাম্পে এ সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। এছাড়াও রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি।জনগুরুত্বপূর্ণ এ সীমান্ত সড়কটি নদীর আগ্রাসনে ভেঙ্গে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বিজিবিসহ অসংখ্য মানুষের চরম ভোগান্তির যেন অন্ত নেই।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি -১১ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল শাহ মোঃ আব্দুল আজিজ আহমেদ। তিনি দ্রুততম সময়ে সড়কটি পূনঃনির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু মোহাম্মদ ইসমাইল নোমান জানান, নারিকেল বাগানস্থ নদী ভাঙ্গনের মুখে চরম হুমকিতে রয়েছে তীরবর্তী এলাকার জনসাধারণ। এ ব্যাপারে তিনিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে জানান।

এদিকে ১ আগষ্ট ( রবিবার) কক্সবাজার-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য, আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল বিলীন হওয়া সড়ক ও নদী ভাঙ্গন স্পট পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দেন।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমার নির্দেশে রামু উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন খান ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ভাঙ্গন এলাকা সার্ভে করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে যেন দ্রুত কাজ শুরু করা হয়।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

মাওলানা মামুনুল হক গ্রেফতার

আনসারুল হক

রোজা আসার আগে যে ১১ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি

আনসারুল হক

কাদের মির্জাকে আ.লীগ থেকে অব্যাহতি, স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ

আলাউদ্দিন