স্বামী–স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ এক হলে কি সন্তানের জটিলতা হয়?

রক্তের গ্রুপ জানা জরুরি। কখন কোন প্রয়োজনে কার কাছ থেকে রক্ত নেয়ার প্রয়োজন হয় বা কাকে রক্ত দিতে হয়, তা আগে থেকে জানা মুশকিল। মানুষভেদে রক্তের গ্রুপ আলাদা হয়। বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে মানুষের রক্তের গ্রুপ আলাদা হয়ে থাকে।

এ, বি, ও―গ্রুপিং পদ্ধতিতে চার ভাগে রয়েছে রক্তের গ্রুপ। যেমন এ, বি, এবি এবং ও। কিন্তু আজকাল অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে, স্বামী ও স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ এক হলে কোনো সমস্যা হবে কিনা। এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিস্তর যুক্তিতর্ক দেখা যায় সাধারণ মানুষের। তবে চিকিৎসা পদ্ধতি বলছে, রক্তের গ্রুপগুলোর মধ্যে কোনোটি গর্ভস্থ শিশুর ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। কিন্তু এবিও গ্রুপের অসামঞ্জস্যতার কারণে ভূমিষ্ঠ শিশুর জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আরএইচ অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে মানুষের রক্তের গ্রুপ পজিটিভ বা নেগেটিভ হতে পারে। আর স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ এক হলে সন্তানের কোনো সমস্যা হয় কিনা, ব্যাপারে দেশের একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বরেছেন রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মারুফা খাতুন। এবার তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক।

স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ পজিটিভ হলে কী হয়: গর্ভস্থ সন্তানের রক্তের গ্রুপও তখন পজিটিভ হয়ে থাকে। এতে মায়ের সঙ্গে ভূমিষ্ঠ সন্তানের রক্তের গ্রুপে সামঞ্জস্য থাকে এবং তারা নিরাপদ থাকে।

স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হলে কী হয়: এ অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানের রক্তের গ্রুপও নেগেটিভ হয়ে থাকে। তবে এতে কোনো ধরনের সমস্যা হয় না।

স্বামীর রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ ও স্ত্রীর পজিটিভ হলে কী হয়: গর্ভস্থ সন্তানের রক্তের গ্রুপ পজিটিভ বা নেগেটিভ বা যেকোনোটাই হতে পারে। তবে মায়ের রক্তের গ্রুপ পজিটিভ হওয়ায় মা বা সন্তান, কারোরই ক্ষতির কোনো শঙ্কা নেই।

স্বামীর রক্তের গ্রুপ পজিটিভ ও স্ত্রীর নেগেটিভ হলে কী হয়: এমনটা হলে গর্ভস্থ সন্তানের রক্তের গ্রুপ পজিটিভ বা নেগেটিভ যেকোনো একটি হতে পারে। সন্তানের রক্তের গ্রুপ পজিটিভ হলে তার শরীর থেকে পজিটিভ কিছু লোহিত রক্তকণিকরা তার মায়ের শরীরে যায় এবং অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এমনটা হলে সাধারণত প্রথম সন্তানের কোনো সমস্যা হয় না।

এ ক্ষেত্রে পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে এবং গর্ভস্থ সন্তান যদি পজিটিভ রক্তের হয়, তাহলে অ্যান্ডিবডি সন্তানের লোহিত রক্তকণিকাগুলো ধ্বংস করে। এতে গর্ভের সন্তানের শরীরে রক্তশূন্যতা ও জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার রক্তশূন্যতার মাত্রা যদি তীব্রতর হয়, তাহলে লিভার ও হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয় এবং ওই সন্তানের শরীরে পানি জমতে শুরু করে। এ অবস্থায় গর্ভস্থ সন্তানের শরীর ফুলে যায় (হাইড্রপস ফেটালিস)। তখন যদি সঠিক চিকিৎসা নেয়া সম্ভব না হয়, তাহলে অনেক সময় গর্ভেই সন্তান মারা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর এ ঘটনা পরবর্তী সব পজিটিভ রক্তধারী সন্তানের ক্ষেত্রে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু সন্তানের রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হলে কোনো সমস্যা হয় না।

এদিকে রক্তের গ্রুপ যদি কোনোভাবে এক হয়েই যায়, তাহলে প্রতিরোধ ও চিকিৎসাও জানিয়েছেন ডা. মারুফা খাতুন। তিনি জানিয়েছেন, গর্ভবতী সব নারীকে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করতে হবে। আর যদি সম্ভব হয়, তাহলে সন্তান ধারণের পরিকল্পনার সময়ই করে নেয়া যেতে পারে। গর্ভবতী নারীর রক্তের গ্রুপ যদি নেগেটিভ হয়, তাহলে স্বামীর রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে নেয়া ভালো। স্বামীর রক্তের গ্রুপ পজিটিভ হলে এ ক্ষেত্রে গর্ভবতী নারীর রক্তে অ্যান্টিবডি আগেই তৈরি হয়েছে কিনা, তা জানার জন্য আরএইচ অ্যান্টিবডি নির্ণয় করতে হবে।

নারীর শরীরে যদি আরএইচ অ্যান্টিবডি উপস্থিত না থাকে, তাহলে ২৮ সপ্তাহে ওই নারীকে অ্যান্টিবডি টিকা নিতে হবে। আর সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সন্তানেরও রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করতে হবে। এ অবস্থায় সন্তানের রক্তের গ্রুপ পজিটিভ হলে তার মাকে ৭২ ঘণ্টার ঘধ্যে ফের টিকা নিতে হবে।

তবে মায়ের শরীরে যদি আগে থেকেই অ্যান্টিবডি থাকে, তাহলে তার কোনো টিকা নেয়ার প্রয়োজন নেই। তাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অন্তঃসত্ত্বা হিসেবে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

কোরআনে বর্ণিত বিভিন্ন উদ্ভিদ ও ফলমূল

নূর নিউজ

খালি পেটে পেঁপে খাওয়ার উপকারিতা

নূর নিউজ

নকল ঘি চেনার উপায়

নূর নিউজ