স্মৃতির পাতায় আল্লামা মুফতী নূরুল্লাহ রহ.

মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান

সময় চলে যায়, সবাই ভুলে যায় দেশের মাটিকে রাঙিয়ে যাওয়া সব আকাবীরে দেওবন্দ আলেমদের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুসিয়া [বড় মাদরাসা]-এর সাবেক প্রিন্সিপাল আল্লামা মুফতী নুরুল্লাহ রহ. সমাজ গড়র একজন নিপূণ কারিগর ছিলেন। মানুষকে গড়তেন। তাঁর কাজের পরিধি কেবল মাদরাসার সীমানাতেই সীমিত ছিলো না। পথেঘাটে, বাড়িতে বাড়িতেও ছুটে যেতেন তিনি। একবার কারও সঙ্গে সাক্ষাত হলে তার ভেতরটা তিনি আলোকিত করে দিতেন। মিষ্টিময় জাদুমোহতা ছিলো তার কথায়। হৃদ্যতা ছড়িয়ে দিয়ে ইসলামের দিকে সাধারণ যে কাউকে টানতে পারতেন তিনি। তার চলা আর বলার নিপূণ দক্ষতায় এভাবেই তিনি সমাজ গড়তেন। দেশ-বিদেশের শীর্ষ মনীষীরা তাকে ভালোবাসতেন। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী তিনি ইন্তিকাল করেন।।

আল্লামা মুফতী নুরুল্লাহ রহ. ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আমাদের আক্বাবির আসলাফদের সর্বশেষ বাতিঘর। যার আলোতে আলোকিত হতো গোটা উম্মত। ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম রহ.’র খাস শাগরেদ হওয়ায় আমাদের পরিবারের সাথে ছিল হযরতের আত্মার বন্ধন।

হুজুরের সাথে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। রমজানে দীর্ঘ একমাস এতেকাফ শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ভোরবেলায় এতেকাফ ভেঙ্গে জামে মসজিদ থেকে বের হয়ে সর্বপ্রথম ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম (রহঃ)’র মাক্ববারা যিয়ারত করেই আমাদের বাসায় আসতেন। দাদীকে আম্মা বলে ডাকতেন। দাদীর সাথে সাক্ষাৎ করে কুশল বিনিময় করতেন। নিজচোখেই দেখতাম উস্তাদের স্ত্রীর প্রতি কতটা আদব বজায় রেখে কথা বলতেন তিনি। যাবার সময় আমাদের পরিবারের সকলকেই দিতেন ঈদের হাদিয়া।

ইন্তেকালের সপ্তাহ দশদিন আগে কি মনে করে যেন নিজ ইচ্ছা থেকে আমাকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নসিহত করেছিলেন। তবে সেই নসিহত গুলোই প্রায় ওছিয়ত হয়ে গেলো। এমন কিছু ওছিয়ত করলেন যা মেনে চলতে গিয়ে অনেক সময় হয়তো কারো রোষানলে কিংবা কারো আক্রোশেও পড়তে হয় আমাকে।

আল্লাহতায়ালা হজরতের দারাজাত বুলন্দি করে দিক, আমাদের উপর হজরতের রুহানি তাওয়াজ্জুহাত ও ফয়ূযাত দিয়ে মালামাল করে দিক। আমীন।

লেখক, মুফতী নুরুল্লাহ রহ. এর ছাত্র ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস: স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দেওবন্দী এমপি ও মন্ত্রী

আলাউদ্দিন

সিরাত বিশেষজ্ঞ সাইয়্যিদ সুলায়মান নদবী (রহ.)

আনসারুল হক

আজ মহান মে দিবস

আনসারুল হক