কারাগারের রিমান্ডে অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন আলেম মাওলানা ইনআমুল হাসান ফারুকী। এই নির্যাতনই হয়ে ওঠে তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অধ্যায়। বর্তমানে তিনি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া ও আর্থিক সহযোগিতা প্রার্থনা করছেন।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. এর বিশ্বস্ত খাদেম ও খলিফা ছিলেন ফারুকী। বাবুনগরীর ছায়াসঙ্গী হওয়ার অপরাধেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। রিমান্ডে অকথ্য নির্যাতনের পর তার শারীরিক অবস্থা ভয়াবহভাবে অবনতি ঘটে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে অন্তত এক বছরের বিশ্রামের পরামর্শ দেন।
কিন্তু বিশ্রামে যাওয়ার আগেই তার শরীরে ধরা পড়ে ক্যান্সার। বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যর্থ হলে তাকে ভারতে নেওয়া হয়। সেখানে টানা পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ভারতীয় চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন আর কোনো চিকিৎসা সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে থাইল্যান্ড, আমেরিকা বা চীনে নিতে হবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতে চার দফা কেমোথেরাপি ও চিকিৎসায় খরচ হয়েছে প্রায় ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এছাড়া মামলা মোকাবিলায় ব্যয় হয়েছে আরও ৩৬ লাখ টাকা। পূর্ণ চিকিৎসার জন্য অন্তত এক কোটি টাকা প্রয়োজন। অথচ অর্থাভাবে সর্বশেষ তিন মাস ধরে তার চিকিৎসা কার্যত বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে ফারুকীর শারীরিক অবস্থা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। হাত পায়ের রঙ পরিবর্তিত হচ্ছে, শরীর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। অর্থকষ্ট ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে।