বিদ্যুৎ ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে শোধরানোর আল্টিমেটাম হাসানাত আমিনীর

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী পূর্বের ভুল শোধরিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখতে এবং নিত্যপণ্য দ্রব্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। আজ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে আবুল হাসানাত আমিনী বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। ডিম, মাছ-গোশত, চাল, ডাল, পেঁয়াজ, সবজিসহ সব নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বি। বাজার নিয়ন্ত্রণের হাঁকডাক সত্ত্বেও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এর দায় ভার বাণিজ্যমন্ত্রী কোনভাবেই এড়াতে পারেন না।

তিনি বলেন, অতি মুনাফা এখন সামাজিক সংক্রমণে পরিণত হয়েছে। এজন্য আইনের প্রয়োগ না হওয়াই দায়ী। ব্যবসায়ীরা নীতি নৈতিকতা ভুলে শুধু মুনাফার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। যা দেশের ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অশনি সংকেত। চলমান সংকটে ব্যবসায় সুস্থ ধারা ফেরাতে সরকার, ব্যবসায়ী সংগঠন ও নেতৃবৃন্দকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাত ভয়াবহ লুণ্ঠনের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম গড়ে সাড়ে আট শতাংশ বাড়লেও সাপ্লাই কোম্পানীগুলো ডিমান্ড চার্জ বাড়িয়েছে ২০ শতাংশ। তবুও প্রতিনিয়ত চলছে লোডশেডিং। আমরা মনে করি, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের ভুলনীতির কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে আর এর দায় জনগণের উপর চাপিয়ে দিতেই বার বার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ থাকলেও দুর্নীতির স্বার্থে মন্ত্রণালয় সেদিকে অগ্রসর হচ্ছে না। উপরন্তু রেন্টাল কুইক রেন্টালের নামে জনগণের পকেট কেটে কতিপয় তোষণ নীতি অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান)-এর কারণে বিদ্যুৎ খাতে অস্বচ্ছতা আরও বেড়েছে। এই আইনের আওতায় দরপত্র ছাড়াই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন চুক্তি করা যাবে। এতে দূর্নীতির পথ আরও প্রশস্ত হবে। জনস্বার্থে আমরা এই আইনটি বাতিল চাই।

তিনি বলেন বাণিজ্যখাত ও বিদ্যুৎ খাত এখন কালো বিড়ালদের দখলে। নেপথ্যে এই বিড়ালদের লালন করছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ও বাণিজ্য মন্ত্রী বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। দু’টি মন্ত্রণালয়ে দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে তারা মিডিয়ার সামনে এসে জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে অবিলম্বে ভুল-ত্রুটি শোধরিয়ে জনগণকে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বাজারখাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহবান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় রাজপথে দূর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে ইনশাল্লাহ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ৫০৯ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে দুই কোটি ৭৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার। এজন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়। সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান। অতিরিক্ত সচিব জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির জন্য সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেডের কাছ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৮৪ টাকা ৮৪ পয়সা। এতে মোট ব্যয় হবে ২০৩ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তিনি জানান, সুং শিং এডিবল অয়েলের কাছ থেকে ৫৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনা হবে। এক্ষেত্রে প্রতি লিটারের দাম ধরা হয়েছে ১৮৪ টাকা ৫০ পয়সা। এতে মোট ব্যয় হবে ১০১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সাঈদ মাহবুব খান জানান, এছাড়া সুপার ওয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৮৫ টাকা ৯৫ পয়সা। এতে মোট ব্যয় হবে ২০৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

নূর নিউজ

ইসলামফোবিয়ার বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়বো

নূর নিউজ

জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল করা হয়নি: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

আলাউদ্দিন