গুলিস্তানে পাগল নাচলেও ২০ হাজার মানুষ হয় : তথ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি আজকে ঢাকায় সমাবেশ করছে। দুই কোটি মানুষের শহর ঢাকা। বিএনপি নয়াপল্টনের সামনে ৫০ হাজার মানুষ জড়ো করে বলেন যে, বিশাল সমাবেশ। গুলিস্তানে পাগল নাচলেও ২০ হাজার মানুষ হয়। শনিবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের অনোয়ারার কোরিয়ান ইপিজেঠের মাঠে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগহ আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন।

টানেল উদ্বোধন উপলক্ষে এই জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি কয়েকদিন পরপর কর্মসূচি দেন। কয়েকদিন দেন হাঁটা কর্মসূচি, বসা কর্মসূচি, কয়েকদিন দেখি দৌড় কর্মসূচি। আবার কয়েকদিন পরে হয়তোবা হামাগুড়ি কর্মসূচি দেবে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি করলে আমাদের কোনো কথা নেই। সরকার, প্রশাসন বিএনপিকে সহযোগিতা করছে। সরকার চাইলে আপনাদেরকে অনুমতি না দিলেও পারত। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন আওয়ামী লীগ সমাবেশ করতে চাইলেও বিএনপি অনুমতি দেয়নি। আপনারা আমাদেরকে লাঠিপেটা করেছেন। আমরা সমাবেশের অনুমতি দিয়েছি। এটাকে দুর্বলতা ভাববেন না। যদি ভাবেন তাহলে ভুল করবেন। আপনারা যদি কোনো গন্ডগোল করতে চান তাহলে কঠোর হস্তে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করা হবে। সন্ত্রাসীদের ঢাকা শহর থেকে বিতাড়িত করা হবে।

হাছান মামুদ বলেন, আজকে জেলা আওয়ামী লীগের সমাবেশ। দেখে যান এখানে কত মানুষ হয়েছে। আমরা অনেক ধৈর্য ধরেছি। এ দেশে গণতন্ত্র নিয়ে ছিনিমিনি করতে দেওয়া হবে না।

এর আগে শনিবার ১১টা ৪০ মিনিটে টানেলের পতেঙ্গা প্রান্তে টানেলের উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর সেখানে মোনাজাত করেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটি পতেঙ্গা প্রান্ত দিয়ে টানেলে ওঠেন। এরপর টানেল দিয়ে আনোয়ারা প্রান্তে আসেন। সেখানে গিয়ে দুপুর ১২টার দিকে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে টোল আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি স্মারক নোট ও ডাক টিকিট উন্মোচন করেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ

নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এই কাজী হাবিবুল আউয়াল?

নূর নিউজ

ইসলামবিরোধী অপতৎপরতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি নেজামে ইসলাম পার্টির

আনসারুল হক

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এটা একটা মাফিয়ার দেশে পরিণত হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচত নয় এই সরকার আজকে জোর করে ক্ষমতা দখল করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যখন চুরি-চামারির কথা বলি, গায়ে লাগে তাদের। গায়ে লাগার কিছু নাই, চুরি করলে মাথা নিচু করে থাকতে হবে। সময় আসছে, যখন তাদের মাথা নিচু করে এ দেশ থেকে চলে যেতে হবে। আজ শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহে জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ফখরুল বলেন, প্রত্যেকটি চোরের-ডাকাতের বিচার হবে এ দেশে। তারা বিচার বিভাগকে ধ্বংস করেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। তাই আওয়ামী লীগকে আর ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, এরা কোনো নির্বাচিত সরকার নয়। এরা কোনো নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারেনি। শুধুমাত্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিভিন্ন আধিপত্যবাদী, পরাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। আমাদের সমস্ত স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা আছে তা ধ্বংস করে দিচ্ছে। ৬ শতাধিক নেতা-কর্মীকে গুম করেছে। ৩৫ লাখের বেশি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তারা একই কায়দায় এ দেশ শাসন করতে চায়, বিরোধী সব মতকে দমন করতে চায়, গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করতে চায়। আবারও তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্ত ঝরিয়েছে। আমাদের ছাত্রদলের নেতাদের নির্মমভাবে পিটিয়ে-গুলি করে আহত করেছে। খুলনায় গত পরশু তারা মিটিংয়ে আক্রমণ করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তারা সন্ত্রাস করে, ভয় দেখিয়ে, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আবারও মানুষের অধিকার আদায়ের যে সংগ্রাম তা ধ্বংস করে দিতে চায়। এবার জেগে উঠছে মানুষ। আমাদের নেতা তারেক রহমান যে পতাকা উত্তোলন করেছেন তা এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পতাকা। যে পতাকা শহীদ জিয়াউর রহমান তুলে ধরেছিলেন, মানুষের সামনে নিয়ে এসেছিলেন; বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা কোথাও চাকরি পাই না। আমাদের ছেলে-মেয়েরা পাস করে যায় কিন্তু তাদের চাকরি দেওয়া হয় না। অথচ ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে বলেছিল, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে; ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে; বিনা পয়সায় সার দেবে। যেখানে যাবে শুধু পয়সা। পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি পেতে হলে ২০ লাখ টাকা কমপক্ষে লাগে, তাও পাবেন না যদি আওয়ামী লীগ না হন। এ দেশকে তারা লুটপাটের রাজত্ব বানিয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে সত্যিকার অর্থে জনগণের রাষ্ট্রে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি। বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, এই দেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সেই সরকার যে নির্বাচন কমিশন গঠন করবে, সেই কমিশনের পরিচালনায় সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন হবে।

নূর নিউজ